ইউক্রেনের ‘ক্ষমা চাওয়ার’ পর তিনটি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা বাতিল করল ইরান

Untitled design (22)

ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার পরও ইরান শেষ মুহূর্তে অভিযানটি বাতিল করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ‘ক্ষমা চাওয়ার’ পর তেহরান হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুসারে, রেজাই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। তবে, কিয়েভের ক্ষমা চাওয়ার পর অভিযানটি চালানো হয়নি।
রেজাইয়ের এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। এই ইরানি সামরিক উপদেষ্টা হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল সম্পর্কেও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর কোনো জলপথই ইরানের নির্ধারিত পথের বাইরে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, কোনো “অবৈধ পথ” ব্যবহার করে প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টাকারী যেকোনো শত্রু সামরিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
রেজাইয়ের মন্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত নৌচলাচলের বিষয়ে তেহরান কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। সাক্ষাৎকারে রেজাই আরও দাবি করেন যে, সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মার্কিন সামরিক বাহিনীর লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, এই হামলাগুলোর মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। তবে, রেজাই তার দাবির সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা বিস্তারিত তথ্য দেননি।
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে হামলার অভিযোগ-
এর আগে, ২৫শে জুলাই, তেহরান একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করে। ইরানের দাবি, কাস্পিয়ান সাগরে ওই হামলায় জাহাজটির একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। সেই ঘটনার পর থেকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। রেজাই দাবি করেছেন যে, এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি চলছিল।
তবে, আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে ইউক্রেনের কথিত ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ এবং হামলা বাতিলের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলস্বরূপ, ইউক্রেনের কোন তিনটি স্থাপনা ইরানের লক্ষ্য ছিল, হামলার প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছিল এবং কিয়েভ কী ধরনের ‘ক্ষমা’ চাইছিল, তা এখনও অস্পষ্ট।

Description of image