সেপ্টেম্বর 2, 2026

বঙ্গভবনের পাশের সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলে: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

Raj-1_low_resolution-1

রাজধানীর মতিঝিলের ব্যস্ত দিলকুশা সড়কের পাশেই অবস্থান রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের ৪ নম্বর গেট। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার সামনের ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকান ও পার্কিং। এতে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। একই সঙ্গে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কারণ ফুটপাতের অবৈধ দোকানে ফুল ও চা বিক্রির পাশাপাশি মাদক বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে।

Description of image

বঙ্গভবনের ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন ফুটপাতের দুই পাশে সারি সারি দোকান বসানো হয়েছে। ফুটপাতের একপাশে রয়েছে চায়ের দোকান, অন্য াশে মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। এসব দোকানের কারণে ফুটপাতের স্বাভাবিক প্রশস্ততা অনেকটাই কমে গেছে। কোথাও কোথাও পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। তাতে বাড়ছে দুর্ঘটনা।

সড়কটির পাশে দাঁড়িয়ে বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ফুটপাত বাদ দিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘ফুটপাত কি হাঁটার জন্য? ফুটপাত তো এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। ফুটপাতের দুই পাশে দোকান বসানোর পাশাপাশি ওপরে ছাউনি দেওয়া হয়েছে। দেখে মনে হয়, আমি ফুটপাত দিয়ে নয়, দোকানের ভেতর দিয়ে হাঁটছি। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়েই হাঁটি।’

শুধু ফুটপাত দখল করেই থেমে নেই দখলদাররা। ফুটপাতের পাশের মূল সড়কের একটি বড় অংশও ব্যবহার করা হচ্ছে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। সেখানে সারিবদ্ধভাবে গাড়ি রাখা হচ্ছে। ফলে ব্যস্ত এই সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

কথা হয় সড়কে গাড়ি পার্কিং করা এক চালকের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চালক জানান, নির্ধারিত মাসিক টাকা পরিশোধ করেই তিনি এখানে গাড়ি রাখেন। সড়কে অবৈধভাবে পার্কিং করে কেন টাকা দেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকের অফিসে গাড়ি রাখার জায়গা নেই। তাই অফিসে নামিয়ে দিয়ে এখানে গাড়ি পার্কিং করেন। এ জন্য নিয়মিত টাকা দিতে হয়, তবে এতে কোনো সমস্যা হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

এর মধ্যে রাস্তার আরেক অংশেও বসানো হয়েছে ফলের দোকান। দোকানের সামনে পণ্য সাজিয়ে রাখায় সড়কের আরও একটি অংশ দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে দুই দিক থেকে আসা-যাওয়া করা যানবাহনকে রাস্তার সীমিত একটি অংশ দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ব্যস্ত সড়কটিতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে পথচারী ও চালকদের ভোগান্তি।

দেখা যায়, পথচারী, রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন একই জায়গা ব্যবহার করছে। এতে দিনের ব্যস্ত সময়ে বঙ্গভবনের ৪ নম্বর গেটের সামনে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট কখনও আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, পথচারী ও গণপরিবহনের যাত্রীরা।

ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন পথচারীরা। নগরীর ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত মূলত মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য তৈরি করা হলেও এখানে সেই সুযোগ কার্যত সীমিত। দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়, পণ্য রাখা এবং বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী রাখার কারণে পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের সঙ্গে পথচারীদের সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বিশেষ করে অফিস সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একদিকে গাড়ির চাপ, অন্যদিকে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারায় সড়কে নেমে আসা পথচারী— দুইয়ে মিলে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

তবে এই সমস্যাকে শুধু জনদুর্ভোগের বিষয় হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বঙ্গভবনের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার একটি গেটের সামনে এভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান এবং পার্কিং পরিচালনার বিষয়টি নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী।

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা; যা কেপিআইভুক্ত এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এমন একটি স্পর্শকাতর এলাকার প্রবেশপথের কাছাকাছি যদি দীর্ঘসময় ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দোকানপাট ও গাড়ি পার্কিং চলতে থাকে, তা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।