সনাতনী সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগ আয়ান শর্মার বিরুদ্ধে
চট্টগ্রামের সনাতনী সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামি আয়ান শর্মার বিরুদ্ধে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সনাতনী সমাজ। ইতোমধ্যে শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি পদ থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। উপরন্তু, আয়ানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সনাতনী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে তারা সনাতনী বিভিন্ন সংগঠন ও নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, আয়ান দীর্ঘদিন ধরে বিভাজন তৈরি করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা করছেন। এ ছাড়া ধর্মীয় সংগঠন নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে সংগঠনের নেতাদের ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করেন। প্রসঙ্গত, আয়ান শর্মার গ্রেপ্তার দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধনও করেছে সনাতনী সমাজ।

‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ নামে একটি নিউজ পোর্টাল এবং সম্প্রতি ‘ভাইরাল নিউজ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে সনাতনী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুৎসা রটানোর অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন দুই নেতা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আয়ান শর্মা নিজেকে ‘চট্টগ্রাম প্রতিদিন’ নামে একটি পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক পরিচয় দেন। পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, আয়ান শর্মা ‘সাংবাদিক’ নামধারী চাঁদাবাজ। ২০০৪ সালে পুলিশের এক এএসআইয়ের কাছে চাঁদা দাবি করে আটক হয়েছিলেন তিনি। তখন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতাদের কাছে মুচলেকা দিয়েছিলেন যে, তিনি আর কখনও সাংবাদিক পরিচয় দেবেন না। ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দুজন তদন্ত কর্মকর্তাও একই প্রতিবেদন দিয়েছিলেন।আয়ান শর্মা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টকারী এবং দেশ ও সমাজের শত্রু উল্লেখ করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চট্টগ্রাম মহানগর সদস্যসচিব বাপ্পী দে আমাদের সময়কে বলেন, আমার মনে হয় আয়ান শর্মা কোনো এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে। কারণ সে কেবল সনাতনীদের বিরুদ্ধাচারণ করছে। ধর্মীয় সংগঠনের নেতা এবং যারা প্রতিবাদ করে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তার এমন বিভাজন সৃষ্টির কর্মকাণ্ডে সনাতনীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তিনি বলেন, আয়ান শর্মা নিজে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা; কিন্তু সে বিএনপি নেতাকর্মীদের আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
আয়ানকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-অভ্যর্থনা বিষয়ক সম্পাদক পলাশ সেন বলেন, আমি রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবিতে নেই; কিন্তু আমাকে আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
রথযাত্রা ও অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠন নিয়ে বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগ এনে জাগো হিন্দু পরিষদের উপদেষ্টা মিলন শর্মা বলেন, নিজ ধর্মীয় সমাজের মানুষের ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করছেন আয়ান। তার এসব কর্মকাণ্ডে সনাতনীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সনাতনীরা আয়ানকে বয়কট করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে একটি ধর্মীয় সংগঠন থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়
