যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান

Untitled design (70)

যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের ওপর হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে ইরান সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা করেছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স আজ বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) এই বিষয়ে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর তেহরান সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন।
আলোচনার সময় আরাঘচি উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের প্রতি নতুন হামলা প্রতিরোধে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একজন ইরানি কর্মকর্তার মতে, নতুন কোনো মার্কিন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিড, তেল শোধনাগার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং তেলক্ষেত্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
সূত্রমতে, ইরানের এই সতর্কবার্তার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ, আলোচনায় ফেরা ও একটি কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও, কাতার, ওমান এবং সৌদি আরবও তেহরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছে। তবে, সৌদি আরবও বলেছে যে তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো হামলার জবাবে সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ইরানের এই সতর্কবার্তার পেছনে ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনাটিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই হামলায় দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তেহরান মনে করে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে বিপন্ন করার এই হুমকি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আরব মিত্রদের ওপর নতুন কোনো হামলা না চালানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ২ আগস্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, দ্রুত একটি চুক্তি হলে তিনি ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে রাজি হয়েছেন। তবে, এই আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা, যাকে ইরান নিজের বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। ফলে, তেহরানের সামনে এখন দুটি প্রধান পথ খোলা আছে – হয় আঞ্চলিক সংঘাত বাড়িয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলা, অথবা এমন একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনো যা ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত ‘চূড়ান্ত বিজয়’ নিশ্চিত করবে না।

Description of image