শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াই কেন অনশন ভাঙলেন, জানালেন সোনম ওয়াংচুক

Untitled design (72)

ভারতীয় পরিবেশকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভাঙার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিন্তু তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল না প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে ইউটিউবে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন যে, প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগেই অনশন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছিলেন। এই আন্দোলনের দাবি ছিল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পরেই তিনি অনশন ভাঙেন। এর আগে, কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দিয়েছিল যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, পরীক্ষা সংস্কার ও প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং নেট (NET) প্রশ্ন ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তবে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াই অনশন ভাঙায় ওয়াংচুক সমালোচনার মুখে পড়েন। জবাবে তিনি বলেন, “মন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো আমার ব্যক্তিগত দায়িত্ব বলে আমি মনে করি না। আমার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে যেন কোনো এফআইআর বা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।”
তিনি বলেন যে আলোচনার সময় তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টিও উত্থাপন করেছিলেন। তবে, তারা এই বিষয়ে আরও সময় চেয়েছিলেন। ওয়াংচুকের কথায়, “আমি বিশ্বাস করতাম যে সরকার এভাবে বেশিদিন টিকতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতেই হবে। তাই, আমি এই দাবির ওপর বাড়তি চাপ দিইনি।” তিনি আরও বলেন যে চলমান আন্দোলন থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি অব্যাহত থাকবে।
‘আপোষের’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
ওয়াংচুক কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “যদি আপোষ হতো, তাহলে কি আমি ২৬ দিন ধরে অনশন করতাম? দিল্লির প্রখর গরমে না খেয়ে থাকার পরিবর্তে, একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে আপোষ করা যেত।”
ওয়াংচুক বলেন যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং বৃহস্পতিবার রাতে মেদান্তা হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তাঁরা আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং সংসদে পরীক্ষা পদ্ধতির জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেন।
তবে, তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না—এই মর্মে লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। ওয়াংচুক বলেন, শুরুতে সরকার শুধু মৌখিক আশ্বাস দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি একটি লিখিত অঙ্গীকারের দাবিতে অটল ছিলেন এবং অবশেষে সরকার তা দিতে রাজি হয়।
তিনি আরও বলেন যে, অনশন ভাঙার সময় তিনি আশা করেছিলেন সাংসদ, সিজেপি নেতা এবং লাদাখের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে থাকবেন। কিন্তু তাঁদের অনেককেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ওয়াংচুক বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আমার কমরেড, ছাত্র এবং সাংসদরা, যাঁরা আমাকে সমর্থন করতে এসেছিলেন, তাঁরা আমার অনশন ভাঙার সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি।”

Description of image

সূত্র: এনডিটিভি