চাঁদপুর হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

Untitled design (90)

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার শিকারচর গ্রামে এক লাখ টাকা জরিমানা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আরিফ হোসেন বেপারীকে (৪৩) মৃত্যুদণ্ড ও দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. কামাল হোসেন আজ সোমবার (১৮ মে) বিকেলে এই রায় ঘোষণা করেন।
নিহত ওয়াসিম উপজেলার শিকারচর গ্রামের বেপারী পরিবারের প্রয়াত সাহেব আলী বেপারীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ট্রলি চালক ছিলেন। একই পরিবারের তাইয়াব আলী বেপারীর ছেলে আরিফ হোসেন বেপারীর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াসিমের পরিবারের সঙ্গে মিজানুর রহমান ওরফে বালু মিজানের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২০ সালের ২৯ জুন রাত প্রায় সাড়ে ১১টায় মিজানুর রহমান ওয়াসিমকে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনে এবং রাতের কোনো এক সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে বাড়ির পাশের সেচ প্রকল্পের বাঁধের পাশের ঝোপে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে পরিবার তার লাশ খুঁজে পায়। এই ঘটনায় ওয়াসিমের মা জাহানারা বেগম (৬০) ৩০ জুন মতলব উত্তর থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন – তাইয়াব আলী বেপারির ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে বালু মিজান (৪৫), আরিফ হোসেন বেপারি (৪৩), মো. আজাদ বেপারি (৪০), মো. করিম বেপারি (৩৮), মেয়ে সালমা বেগম (২৭) এবং একই বাড়ির মোশাররফ বেপারির ছেলে মো. কুদ্দুস বেপারি (২৫)। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন মতলব উত্তর থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. আব্দুল আওয়াল। তিনি মামলার তদন্ত শেষ করে ২০২১ সালের ৩১ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কামাল উদ্দিন জানান, আদালতে মামলা চলাকালীন ২৫ জনের সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়। বিচারপতি সাক্ষ্যপ্রমাণ, মামলার নথি পর্যালোচনা এবং অভিযুক্তদের দোষ স্বীকারের পর তার উপস্থিতিতে এই রায় দেন। অন্য অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। অপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন হারুনুর রশিদ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন জাবির হোসেন।

Description of image