মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশজুড়ে সংকট কাটেনি, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

Untitled design (41)

জ্বালানির দাম বাড়া সত্ত্বেও দেশজুড়ে সংকট কাটেনি। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও বহু গ্রাহক প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাঁরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর রংপুর বিভাগে। শহরাঞ্চলের কিছু ফিলিং স্টেশন জ্বালানি সরবরাহ করলেও গ্রামাঞ্চলে তীব্র সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষ অনেক পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা কৃষি ও পরিবহন খাতকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির খবরে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকে বলছেন, সংকটের কারণে ইতোমধ্যে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির ফলে তা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা সত্ত্বেও কিছু ফিলিং স্টেশন মজুত করা তেল আগের দামে বিক্রি করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সকালে শহরের এ বি খান ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত নতুন দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ২৯টি ফিলিং স্টেশনে বিপুল পরিমাণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, মজুত করা তেল পুরোনো দামে বিক্রি করার কথা থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে যে তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। তবে, একটি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে পুরোনো দামে বিক্রি করার বিষয়ে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাননি।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকটের সঙ্গে নতুন মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে, ভিড় কিছুটা কমলেও শ্রমজীবী মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। অনেকের মতে, এই অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর জেলায় তেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। বাজারে সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে ইতিমধ্যেই অস্থিরতা রয়েছে।
চট্টগ্রামেও জ্বালানি সংকট অব্যাহত রয়েছে। বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্প এখনও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেনি। ফলে চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। চালকরা জানান, তাঁরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং খরচ বাড়ছে।
এক চালক বলেন, দাম বাড়লেও আমাদের জ্বালানি কিনতে হবে। খরচ বাড়বে, কিন্তু আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আরেকজন বলেন, সকাল ৭টা থেকে অপেক্ষা করেও তাঁরা জ্বালানি পাননি। জ্বালানি সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কোথাও সরবরাহের ঘাটতি, কোথাও প্রশাসনিক নির্দেশনায় জটিলতা, আবার কোথাও দীর্ঘ লাইনের চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়।

Description of image