সেপ্টেম্বর 22, 2026

আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী চন্দ্র কক্ষপথ পরিক্রমা শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন

Untitled design

আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। জলে অবতরণের পর মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেছেন যে, তিনি এবং তার তিন সঙ্গী সুস্থ আছেন।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬:০৭ মিনিটে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার রাত ৮:০৭ মিনিটে) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। এএফপি এবং সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
সমুদ্রে অবতরণের পর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেন, “কী এক অসাধারণ যাত্রা। আমরা স্থিতিশীল আছি।” চারজন নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এটি নিশ্চিত করে যে সকল নভোচারী শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।
নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিলারিয়াল বলেছেন যে, অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। প্রথমে তাদের ‘ফ্রন্ট পোর্চ’ নামক একটি ভেলায় আনা হবে, তারপর হেলিকপ্টারে করে মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি. মুরথা’-তে নিয়ে যাওয়া হবে।
নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ র‌্যাডিগান বলেছেন যে, সমুদ্র শান্ত থাকলে উদ্ধার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে। জাহাজে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর, নভোচারীদের বিমানে করে হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।
১০ দিনের এই চন্দ্রাভিযানটি ১ এপ্রিল শুরু হয়েছিল। এতে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান এবং কানাডার ক্রিস্টিনা কচ, ভিক্টর গ্লোভার ও জেরেমি হ্যানসেন। এই অভিযানটি বেশ কয়েকটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাদের সর্বোচ্চ চাঁদের দূরবর্তী অংশে থাকাকালীন পৃথিবী থেকে দূরত্ব ছিল ২,৫২,৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ অভিযানের গড়া রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
এছাড়াও, ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করেন। এই অভিযানের সময় নভোচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টিও প্রত্যক্ষ করেন।
২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ পাঠানোর নাসার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হলো আর্টেমিস ২ অভিযান। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনটি নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স এবং অ্যাপল টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।

Description of image