বীমা খাতে অবৈধ কমিশন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি
বাংলাদেশের বীমা খাতে কমিশন নির্ভর অনৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আর্থিক সুবিধার প্রলোভনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে গ্রাহক ও পলিসি স্থানান্তর হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

তারা বলছেন, বাংলাদেশ সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্ধারিত আইন, বিধি বিধান ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে বীমা ব্যবসা পরিচালনা করা অপরিহার্য। বীমা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, এজেন্ট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের জন্য প্রযোজ্য বিধিবিধান মেনে চলা নিশ্চিত করা উচিত।
বীমা খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হলে অবৈধ কমিশন বন্ধ, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একইসঙ্গে পলিসি হোল্ডারদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক বীমা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, নন লাইফ বীমাকারীরর ব্যক্তি এজেন্ট লাইসেন্স স্থগিত করে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের(আইডিআরএ) আইন/বিধি/প্রবিধি প্রণয়ন শাখা। এতে বলা হয়েছে- নন লাইফের বীমা পলিসি গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ, বীমাকারীর আর্থিক ভিত মজবুতকরণসহ বীমাখাতের বৃহত্তর স্বার্থে নন লাইফ বীমাকারীরর এজেন্ট লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নন লাইফ বীমা ব্যবসায় কোন ব্যক্তি এজেন্ট থাকবে না। তাই নন লাইফ বীমা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি এজেন্ট কমিশন বা কমিশনের নামে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রদানের সুযোগ নেই। এই নির্দেশনার ব্যত্যয় বীমা আইন ২০১০ এর ৫৮(১) ধারার লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনার ব্যত্যয় আইন লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হলেও কিছু কিছু বীমা প্রতিষ্ঠান এ নিদের্শনা মানছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা এখনো এজেন্ট কমিশন দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছে, সেগুলো ঝুঁকিতে পড়ছে।
নিময় মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আইডিআরএ আইন, বিধি বিধান ও নির্দেশনা মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন অবৈধ কমিশন নির্ভর প্রতিযোগিতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে অবৈধ কমিশন প্রদান থেকে বিরত থাকলে অন্য প্রতিষ্ঠান অনৈতিক আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে গ্রাহক আকৃষ্ট করার সুযোগ পেলে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। এতে সৎ ও নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থাও দুর্বল হতে পারে।
তারা বলছেন, কোনো কোনো সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারী, এজেন্ট কিংবা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে গ্রাহক বা পলিসি অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরে ভূমিকা রাখছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পলিসি স্থানান্তর, কমিশন প্রদান, ব্যাংক লেনদেন ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা উচিত।
এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে আইডিআরএ’র কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। তবে তারা কেউ নাম প্রকাশে রাজি হননি। একটি বীমা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, আইন না মেনে অবৈধ কমিশন প্রদান, অনৈতিক আর্থিক প্রণোদনা, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পলিসি স্থানান্তরের বিষয়টি আইডিআরএকে জানানো হয়েছে। বিধি বিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
