পুলিশি বর্বরতার পর তেলাপোকা পার্টির নেতা বললেন, ‘আমরা থামব না’

Untitled design - 2026-07-21T145800.450

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ঘোষণা করেছে যে, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি বর্বরতার একদিন পর, আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংগঠনটি এই ঘোষণা দেয়।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। পুলিশ ও বিক্ষোভকারী ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হন।
সিজেপি এই বছরের মে মাসে একটি সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি লক্ষ লক্ষ মানুষের সমর্থন লাভ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বৃহত্তম গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, ‘আমরা থামব না।’ ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’
এদিকে, শত শত বিক্ষোভকারী আজও দিল্লির জন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই নয়, সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারেরও দাবি করছেন। গতকাল বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লিতে এটি ছিল অন্যতম বৃহত্তম সড়ক বিক্ষোভ।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১৮ জন ছিলেন পুলিশ কর্মী, যাদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন। পুলিশ দাবি করেছে যে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ‘অশৃঙ্খল ও সহিংস আচরণ’ করেছে। একই সাথে, তারা জানিয়েছে যে প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহতও হয়েছেন।
অন্যদিকে, আন্দোলনের আয়োজকরা পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ নিন্দা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে শত শত বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। আশুতোষ রাঙ্কা এএফপি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক দিন।’ ‘দিল্লি পুলিশ তাদের ন্যায্য দাবির দাবিতে প্রতিবাদ করতে আসা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নির্মমভাবে মারধর করেছে।’
তিনি আরও বলেন যে, সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক হওয়া সত্ত্বেও সরকার এখনও তাদের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা কমে গেছে।
উল্লেখ্য যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে সম্প্রতি বাতিল হওয়া মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর আগে, প্রায় ২০ লক্ষ উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্রছাত্রীর অনলাইন মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, যা দেশজুড়ে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

Description of image