মামদানি চান নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হোক, ট্রাম্প বললেন, ‘সম্ভব নয়’

Untitled design - 2026-07-21T114649.465

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক সফরে এলে তাকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা উত্থাপন করার পর ট্রাম্প এই বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন কোনো অবস্থাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না।’ এর আগে, মেয়র জোহরান মামদানি মন্তব্য করেছিলেন যে, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে শহরে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি আইন বিভাগ আলোচনা করছে।
শনিবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে।’ তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছে। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই একই মত পোষণ করেন।”
মামদানির বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন যে, নেতানিয়াহু এমন একটি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে। ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরান সম্প্রতি ৫২,০০০ নিরীহ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে এবং গত ৪৭ বছর ধরে মার্কিন সৈন্যসহ বহু মানুষকে হত্যা করে আসছে। তিনি আরও লেখেন, “যারা ইরানকে মৃত্যু ও ধ্বংসের এই নজিরবিহীন চক্রে ঠেলে দিয়েছে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা উচিত। পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতিদের অনেক আগেই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।”
আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা-
২১ নভেম্বর, ২০২৪-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ, তিনি গাজা যুদ্ধের সময় যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছেন এবং হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অন্যান্য অপরাধ করেছেন।
হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর গাজায় যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, এই মামলাটি সেই যুদ্ধ থেকেই উদ্ভূত।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়া-
গত রবিবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় আইসিসি এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহর মামদানির তীব্র সমালোচনা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আইসিসি একটি প্রহসনমূলক আদালত, যার যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাগরিকদের ওপর কোনো এখতিয়ার নেই। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা তথাকথিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি জারি করেছিলেন আইসিসির সাবেক প্রসিকিউটর করিম খান, তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার মাত্র কয়েকদিন আগে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “করিম খানের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করার পরিবর্তে, জনাব মামদানির উচিত তার নীতির কারণে নিউইয়র্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মোকাবিলা করার দিকে মনোযোগ দেওয়া।” করিম খানের মতোই, মামদানিও নিজের ব্যর্থতা থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে নিতে এবং ইহুদি রাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশের নেতাকে আক্রমণ করতে বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।

Description of image