ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলার পরিকল্পনার কথা ইসরায়েলকে জানাল যুক্তরাষ্ট্র
আগামী দিনগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে জানিয়েছে। একই সাথে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি ও মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘কান’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পাল্টা হামলা চালালে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে দুই দেশ আলোচনা করেছে।
তবে, ওয়াশিংটন বর্তমান সংঘাতে ইসরায়েলকে সরাসরি জড়িত না রাখার অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিষয়টি তেল আবিবকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। দুই দেশের কৌশলগত মূল্যায়নে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, ইরান ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে।
সেক্ষেত্রে, ইসরায়েলও ইরানের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা চালাতে বাধ্য হতে পারে। তবে, মার্কিন প্রশাসন আপাতত এমন পরিস্থিতি এড়াতে চায়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও, মার্কিন স্বার্থে সম্ভাব্য ইরানি হামলা মোকাবেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপ এবং কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটি থেকে ১০টিরও বেশি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ইসরায়েলে এসে পৌঁছেছে। এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদ ওয়েবসাইট উইনট (WeNot) বিমান বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি এবং দক্ষিণের রামন বিমানবন্দরে প্রায় ১০০টি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে।
সূত্রটি দাবি করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান অভিযানের জন্য ইসরায়েলে আরও বেশি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।
উইনট আরও বলেছে যে, এই বিমানগুলোর কয়েকটি তেল আবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও পরিচালিত হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত সপ্তাহের শেষের দিকে সেখানে অতিরিক্ত ১৪টি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অবতরণ করেছে।
যদিও যুদ্ধ শেষ করে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়াশিংটনের ক্রমাগত আক্রমণের জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে আসছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
