হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে টানা নবম রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

Untitled design - 2026-07-20T104302.510

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় আজ সোমবার (২০ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলায় উত্তর ও দক্ষিণ ইরানের তাবরিজ, চাবাহার, সিরিক এবং জাস্কসহ বেশ কয়েকটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাবরিজ, চাবাহার, সিরিক এবং জাস্কসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলা চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদিকে, এই হামলায় আরও একজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এটি তৃতীয় মার্কিন সেনার মৃত্যু। একই সময়ে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক মাস আগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যত ভেস্তে গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম খুজেস্তান প্রদেশের বন্দর শহর মাহশাহর ও ইমাম খোমেনিতে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। হরমুজগান প্রদেশের সিরিক ও জাস্ক শহরের কাছে এবং বুশেহর প্রদেশের হরমুজ শহরের আশেপাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
আইআরআইবি আরও জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমের শহর তাবরিজের কাছে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বের শহর কোনারাক ও চাবাহারে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক অভিযানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে
এর আগে, সেন্টকম জানিয়েছিল, শনিবার উত্তর ইরাকে গুলি করে ভূপাতিত করা একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় এক দুর্ঘটনায় একজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলার স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় মানবদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা চলছে।
এই হামলায় দুজন মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। এই সর্বশেষ মৃত্যুর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার মোট সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে। এছাড়া আরও ৪২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে চলমান এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

Description of image