৮ জেলায় বন্যায় ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, পুনর্বাসন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: ত্রাণমন্ত্রী

Untitled design (79)

দেশের আটটি জেলায় সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও, সরকার এখন উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, জরুরি প্রতিক্রিয়া ও সমন্বয় নিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর পিআইডি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে প্রথমে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য এলাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এবং পরে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের কিছু অংশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
৫৪ জন মারা গেছেন, যাদের অধিকাংশই ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন। দুলু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা হিসেবে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। শুকনো খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার সরবরাহের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্পিডবোট ও রাবার বোট পাঠানো হয়েছে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এখন পানি কমতে শুরু করেছে, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো পুনর্বাসন কার্যক্রম। কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে এবং সেই অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হবে। বন্যা পরবর্তী রোগ মোকাবেলার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। ‘কবিখা ও কবিতা’ কর্মসূচির মাধ্যমে কাঁচা রাস্তা মেরামত করা হবে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্যসহায়ক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ বন্যা হিসেবে এ বছরের বন্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি বুধবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। আজ তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন।
ঢাকায় জলাবদ্ধতা ও ড্রেজিং প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও কেন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—এই প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীলতা’। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে যা ঘটেছে তা ভিন্ন বিষয়। বর্তমান সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করে না। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Description of image

সর্বশেষ সংবাদ