নওগাঁয় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে
নওগাঁ: জেলায় সংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক রয়েছে, কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে রোগীদের আত্মীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে নওগাঁ সদর, পর্শা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, আত্রাই ও মান্ডা উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন। সর্বাধিক সংক্রমণ দেখা গেছে নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে।
গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখি, পুরো ওয়ার্ডটি রোগীতে ঠাসা। ২০টি শয্যার বিপরীতে প্রায় ৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। জায়গার অভাবে অনেককে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
আত্মীয়দের অভিযোগ, একই বিছানায় দুই থেকে তিনজন রোগীকে রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সাথে, জ্বর, ডায়রিয়া ও হামের রোগীদের একসাথে চিকিৎসা করায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এক রোগীর আত্মীয় অভিযোগ করেছেন যে, হাসপাতালে থার্মোমিটার ছিল না এবং হাত দিয়ে তাপমাত্রা আন্দাজ করে ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল – এটি খুবই হতাশাজনক।
মান্ডা উপজেলার এক শিশুর মা জানান, জ্বর ও শরীরে চুলকানির পর তার সন্তানের অবস্থার অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে, রানিনগরের এক মহিলা জানান, তার নাতির খিঁচুনি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, কিন্তু বেড না পাওয়ায় তাকে মেঝেতেই চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ জেনাত রেহেনা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে জ্বর, কাশি ও শরীরে লাল ফুসকুড়ি নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে ডাক্তার ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন, কিন্তু তারা এখনও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ আবু জার গাফফার বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি কেবিনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও ওয়ার্ড যুক্ত করা হবে। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইতোমধ্যে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত এলাকার আশেপাশের প্রায় ৪০টি বাড়ির শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করতে বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় মে মাসে শিশুদের এমআর ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে।
এদিকে, হামের উপসর্গ—জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আহ্বান জানিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

