হাউকোর্টের আদেশ না মেনে এজিএম: চিটাগাং কো-অপারেটিভ সভাপতির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ
আইন অনুযায়ী সংগঠনের যে কোন সভা এবং বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করেন সাধারণ সম্পাদক। আইন না মেনে শুরু থেকে সম্পাদককে বাদ দিয়ে নানা সিদ্ধান্ত নেন সভাপতি। এমনকি বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করানো হয়েছে বেতনভুক্ত ম্যানেজারের স্বাক্ষরে। সাধারণ সম্পাদকের রিট মামলার প্রেক্ষিতে রুল নিশি জারি করে ৩ মাসের জন্য ওই সভা স্থগিত করেন উচ্চ আদালত। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে সভা করা হয়েছে; যা আদালত অবমাননা শামিল।

এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাই লিমিটেডে। আদালত অবমাননার মতো ঘটনা সংগঠনের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করবে বলে মনে করছেন সাধারণ সদস্যরা। তারা সভাপতির এমন বেপরোয়া আচরণের সমালোচনা করে বলেছেন, একটি সংগঠনের নির্বাহি ক্ষমতা সাধারণ সম্পাদকের হাতে। সেখানে সম্পাদককে বাদ দিয়ে কোন কিছু করতে যাওয়া ¯্রফে বোকামি। তাদের মতে, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বার্ষিক সাধারণ সভানুষ্ঠান করে দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাইজিং সোসাইটির সভাপতি একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছেন।
জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে না জানিয়ে ম্যানেজারের স্বাক্ষরে বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করেন সংগঠনের সভাপতি ওয়াহিদ মালেক। ওই সভার আহ্বানের নোটিশের বিরুদ্ধে আদালতে রিট মামলা দায়ের করেন সম্পাদক। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ আবদুলআউয়াল ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর দ্বৈত বেঞ্চ বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬-এর নোটিশের উপর রুল নিশি ও ৩ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম ক্লাবে সভা করেন।
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামে ক্লাব লিমিটেডে বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ওয়াহিদ মালেক। সভায় ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ডা. মোহাং তৈয়ব শিকদার, সদস্য মো. তাজুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, মো. ইফতেখারুল হক চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তবে সভার কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় আগামী ১৭ অক্টোবর পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সভাপতি ওয়াহিদ মালেক।
সূত্র জানায়, সমিতির উপ-আইনের ১৫.২(১) ও ১৬.৭(গ) অনুযায়ী সমিতির সভা ও বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করার এখতিয়ার একমাত্র সম্পাদকের উপর ন্যস্ত। ওই আইন লঙ্ঘন করে সমিতির বেতনভূক্ত কর্মচারী (ব্যবস্থাপক) এ সাধারণ সভা ২০২৬ আহ্বান করে; যার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সম্পাদক গত বৃহস্পতিবার রিট (মামলা নং-১৪৩৫৫/২০২৬) দায়ের করেন।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে গত ১৬ মে আহ্বানকৃত একটি বার্ষিক সাধারণ সভা নিয়েও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সমিতির সংশ্লিষ্টরা। ওই সময় সভাপতির স্বাক্ষরে সভার নোটিশ জারি করে এজিএম আহ্বান করা হয়েছিল বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়। সভাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট পিটিশনের (৬০১০/২৬) পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চও সভার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।
জানতে চাইলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, উচ্চ আদালদেতর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কোরাম পূরণ হয়নি। তাই সভার সভাপতি ওয়াহিদ মালেক আগামী ১৭ অক্টোবর একই স্থানে মূলতবী বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ মান্য করা বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক। আদালতের আদেশ যারা অমান্য করেছেন তাদের ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত নিবে। যেহেতু উচ্চ আদালত এই বার্ষিক সাধারণ সভা স্থগিত করেছেন সেহেতু এই সভার কোন কার্যকারিতা ও আইনি ভিত্তি নাই। বিষয়টি আমরা আইনিভাবে মোকাবেলা করবো।
