রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদন: ইরান পাচ্ছে চীনের কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম চালান

Untitled design (46)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক মাসের যুদ্ধের পর নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে ইরান চীন-নির্মিত কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাড) কিনছে। এ বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালানটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে পৌঁছাতে পারে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যানপ্যাড কেনা হবে। এর মধ্যে চীন-নির্মিত কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। সূত্রগুলো আরও জানায়, হংকং-ভিত্তিক ‘ঝংজিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট’ নামক একটি কোম্পানির মাধ্যমে ইরান এবং চীনা সরবরাহকারীর মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
তবে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনগুলোকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, চীন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অবসানে ভূমিকা পালন করে আসছে। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে, চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লিখিত সংস্থাটির পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও ইরান প্রতিশোধ হিসেবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, এই সংঘাত দেশটির স্থায়ী সামরিক স্থাপনা রক্ষা করার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহের সময়সূচী, পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক এখনও পরিবর্তন সাপেক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চালানটি প্রথমে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে পাঠানো হবে। এরপর এটি পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ইরানে পৌঁছানোর কথা। তবে, পরিবহনের শেষ অংশটি আকাশপথে হবে নাকি সড়কপথে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে যে, চীন থেকে ইরানে বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তান জড়িত থাকার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছোট ছোট দল দ্বারা সহজেই পরিচালনা ও দ্রুত মোতায়েন করা যায়। ফলে, স্থির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারির চেয়ে এগুলো ধ্বংস করা কঠিন এবং ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষা দিতে পারে।
একটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে, ইরানের কাছে QW-12, QW-18 এবং QW-19 সিরিজের ম্যানপ্যাড বিক্রির জন্য বেশ কয়েকটি চুক্তি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তারা অবগত। মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে যে, ইরান বিশেষ করে QW-12 এবং QW-18 ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে আগ্রহী ছিল, কিন্তু চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে তারা অবগত ছিল না।
রয়টার্স পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্র এবং একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আরও জানিয়েছে যে, চীন ও ইরান গোপনে সামরিক সরঞ্জাম এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী পরিবহনের জন্য স্থলপথ ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করেছিল। এর আগে, রয়টার্স জানিয়েছিল যে, ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার একটি পৃথক চুক্তিরও কাছাকাছি ছিল। তবে, চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত নয়।

Description of image