বুর্কিনা ফাসোর সামরিক শাসক মুসলিম ধর্মগুরুদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুর্কিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ত্রাওরে দেশের মুসলিম ধর্মগুরুদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, উগ্র ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের “লড়াই শুরু হয়ে গেছে”।
সম্প্রতি এক ভাষণে ত্রাওরে বলেন, ইসলামকে যদি চরমপন্থার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। “এটাই যদি আপনাদের ইসলাম হয়, তবে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। চরমপন্থীদের অবশ্যই বদলাতে হবে। অন্যথায়, লড়াই শুরু হয়ে গেছে।”
তিনি সরকারের বিতর্কিত ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনেরও পক্ষে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন যে, এই নতুন আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সাথে, তিনি সতর্ক করে দেন যে, যেসব ইমাম তাদের ধর্মোপদেশে চরমপন্থা ছড়াবেন, তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে। তবে, তিনি শান্তিপূর্ণ ইসলামের প্রচারকারী ধর্মগুরুদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সমর্থনের আশ্বাসও দেন।
মে মাসে, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী সুন্নি ধর্মগুরু ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোকে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত একটি খসড়া আইনের সমালোচনা করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের পর কর্তৃপক্ষ রাজধানী ওয়াগাদুগুর বৃহত্তম সুন্নি মসজিদটি বন্ধ করে দেয়। এরপর তার প্রায় ১০০ জন সমর্থককে “বেসামরিক প্রশিক্ষণ”-এর আড়ালে একটি সামরিক ক্যাম্পে পাঠানো হয়। একই ধরনের অভিযোগে ইমাম মাহমুদ বারোকেও আটক করা হয়েছিল।
২০ জুন, অন্তর্বর্তীকালীন সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত একটি আইন পাস করে। এই আইনে শিশুদের ভিক্ষা করতে বাধ্য করা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত কিছু ধর্মীয় অনিয়মের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ড আরোপ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার বলছে, এই আইনটি ধর্মনিরপেক্ষ সাংবিধানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক শুধু একটি আইন নিয়ে নয়; বরং, ২০২২ সালে সামরিক সরকার ক্ষমতা দখলের পর মুসলিম পণ্ডিতদের সাথে যে অনানুষ্ঠানিক বোঝাপড়া হয়েছিল, তা ভেঙে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এটি সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দিতে পারে এবং দীর্ঘদিনের জঙ্গি সংকট মোকাবেলা করা আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
এদিকে, ত্রাওরে বিদেশে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারি অনুমতি ছাড়া বিদেশে ধর্মীয় পড়াশোনার অনুমতি দেওয়া হবে না এবং বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে আসতে হবে। অন্যথায়, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। একই সময়ে, বুর্কিনা ফাসো ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক জোরদার করছে। সম্প্রতি, দেশটিতে ইসরায়েলের নতুন রাষ্ট্রদূত সাইমন সেরুসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই পদক্ষেপটি নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি উদ্যোগের অংশ।

সূত্র: দি নিউ আরব
