হাঙ্গেরির জঙ্গলে ডাগনভূঁইয়ার বুলবুলের মৃত্যু

Untitled design (4)

পরিবারের জন্য সমৃদ্ধি আনার আশায় ইউরোপে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল ফেনীর ডাগনভূঁইয়ার ফরিদুর রহমান বুলবুলের। এক দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি ১৮ লাখ টাকা হারান এবং হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে মারা যান। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ডাগনভূঁইয়া থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুলবুল (৩২) ওই উপজেলার জয়লস্কার ইউনিয়নের পূর্ব বড়াহিগুনি এলাকার সোফি ডাক্তার বাড়ির প্রয়াত মফিজুর রহমানের ছেলে। জানা গেছে, তিনি ফেনী শহরের বিরঞ্চি এলাকার বাসিন্দা দালাল মো. দুলালের সঙ্গে পরিচিত হন। সরাসরি বিমানে করে ইতালিতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বুলবুল দুলালের সাথে ১৮ লক্ষ টাকার একটি চুক্তি করেন। তার পরিবার বিভিন্ন সময়ে নগদ ও চেকের মাধ্যমে চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধ করে।
চুক্তি অনুযায়ী, বুলবুল ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন। তবে, তাকে সরাসরি ইতালিতে না পাঠিয়ে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বুলবুলকে পূর্ব ইউরোপের সার্বিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
আত্মীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রাপথে হাঙ্গেরির জঙ্গলে বুলবুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল এর আগে দীর্ঘদিন সৌদি আরবের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে ইতালিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। মৃতের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়েছিল। সে সময় বুলবুল বলেছিল যে, দালাল দুলাল তার কথা রেখেছে এবং তাকে সরাসরি ফ্লাইটের পরিবর্তে ট্রেন ও বাসে করে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর ২৬ জুন থেকে আইএমও-তে ফোন এলেও সে ফোন ধরেনি।
নজরুল যুগান্তরকে বলেন, আমরা যখন দালাল দুলালের কাছে তার ভাইয়ের খোঁজ নিতে যাই, তখন সে নানা অজুহাত দেখায়। আমরা দাবি করছি, ভাইয়ের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং সরকারের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ওই প্রতারক দালালকে শাস্তি দেওয়া হোক। অবশেষে, রবিবার সকালে হাঙ্গেরির পুলিশ প্রথমে আত্মীয়দের ফোন করে তথ্য যাচাই করে। পরে দাগনভূঁইয়া থানার একটি দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পর পরিবার জানতে পারে যে বুলবুল আর বেঁচে নেই।
এ প্রসঙ্গে দাগনভূঁইয়া থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর ঠিকানা ও পরিচয় যাচাই করতে বলেছিল। সেই অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে মৃতের মরদেহ হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসন পরিবারটির সন্ধান করছে এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

Description of image