সিরিয়া ও লেবানন থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের আহ্বান

Untitled design - 2026-07-15T130156.292

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, সম্প্রতি দুজনের মধ্যে এক টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প এই অনুরোধ করেন। বেশ কয়েকজন মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে, বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের কারণে নেতানিয়াহুর পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। আসন্ন নির্বাচন তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকায়, সিরিয়ার অধিকৃত এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার বা লেবাননে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা ছাড়া তিনি অন্য কোনো বড় পদক্ষেপ নেবেন, এমন সম্ভাবনা কম।
তা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের এই অনুরোধ নেতানিয়াহুর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়েছে। বর্তমানে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং দক্ষিণ সিরিয়ার বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। ইসরায়েল দাবি করে যে, ৭ অক্টোবরের হামলার মতো আরেকটি অনুপ্রবেশ রোধ করতে এই এলাকাগুলোতে সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য এলাকাগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পক্ষে, এমনকি কেউ কেউ সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে সিরিয়ার মাটিতে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প বলেছেন, “ওরা আপনাদের সেখানে চায় না।” তিনি আরও বলেন, “আপনাদের সেনা সরিয়ে নেওয়া উচিত,” এবং যোগ করেন যে একই কথা লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সীমান্ত বরাবর একটি নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সাক্ষাতের একদিন পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ফোনকলটি হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, নেতানিয়াহু তাদের প্রত্যাশিত ছাড় দিতে আগ্রহী নন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত ছাড়গুলোর মধ্যে ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কর্তৃক দখলকৃত সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমিক সেনা প্রত্যাহার। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি স্থানীয় বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে, ইসরায়েলি সেনারা বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন মধ্যস্থতায় রোমে ইসরায়েলি ও লেবানিজ কূটনীতিকদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামো চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। চুক্তি অনুসারে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি “পাইলট জোন” থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেখানে লেবানিজ সেনাবাহিনীকে মোতায়েনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।
তবে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এখনও ওই দুটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেনি। লেবানিজ সরকার চায় এই প্রত্যাহার দ্রুত শুরু হোক এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী ঘোষণা করা হোক। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, অন্যান্য এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের আগে তারা নিশ্চিত হতে চান যে, দুটি “পাইলট জোনে” হিজবুল্লাহর কোনো অস্ত্র বা সামরিক অবকাঠামো অবশিষ্ট নেই। তবে, লেবাননের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেওয়া উচিত।
হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে, তারা প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা অস্বীকার করেনি। একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান মিত্র এবং ট্রাম্পের চেয়ে ইসরায়েলের জন্য বড় বন্ধু ও শান্তির রক্ষক আর কেউ নেই।

Description of image

সূত্র: অ্যাক্সিওস