তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগ উপেক্ষা করল চীন, বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিল

Untitled design (16)

তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যেকোনো সহযোগিতার লক্ষ্য কোনো তৃতীয় পক্ষ নয় এবং এতে কোনো বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব থাকা উচিত নয়। একই সাথে, দেশটি তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার লক্ষ্য কোনো তৃতীয় পক্ষ নয়। একই সাথে, এই সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।”
ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, ঢাকা ও বেইজিংয়ের এই যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির কৌশলগত উদ্বেগ রয়েছে, কারণ তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছাকাছি। এই প্রসঙ্গে গুও জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের জনগণের জীবনমানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প।
এই প্রকল্পে চীন তার সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার করতে এবং বাণিজ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, জনকল্যাণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা ও পারস্পরিক আদান-প্রদান আরও বাড়াতে আগ্রহী।
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো তিস্তা প্রকল্পের ওপর একটি যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাবেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে, যা আগে কখনো করা হয়নি। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত প্রমাণিত হলে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
তিস্তা নদীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন মূলত একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে, তিস্তা প্রকল্প সম্পর্কিত যেকোনো অগ্রগতি ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে মনে করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা পাওয়ারচায়না তিস্তা প্রকল্পের সমঝোতা স্মারকটি সম্প্রসারণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছে অবস্থিত। ‘চিকেন’স নেক’ নামে পরিচিত এই করিডোরটিই উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতীয় মূল ভূখণ্ডের মধ্যে একমাত্র স্থল সংযোগ। ভারত আশঙ্কা করে যে, এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি অথবা অন্য কোনো বহিরাগত শক্তির প্রভাব দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

Description of image