এই মাসে তৃতীয়বারের মতো জ্বালানির দাম বাড়াল ভারত

Untitled design (55)

ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলো এই মাসে তৃতীয়বারের মতো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন জ্বালানির দাম আজ শনিবার (২৩ মে) থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম ৮৭ পয়সা বেড়ে প্রতি লিটার ৯৯.৫১ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিজেলের নতুন দাম ৯১ পয়সা বেড়ে প্রতি লিটার ৯২.৪৯ টাকা হয়েছে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক এবং ভোক্তা। তবে, ইরানকে নিয়ে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পরেও, খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম বাড়ানো শেষ প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম ছিল।
এই মাসে তিনবার মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতে জ্বালানির দাম মোট প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। ১৫ মে ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধিটি ছিল চার বছরে ভারতের প্রথম জ্বালানির মূল্য সমন্বয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলো একবারে খুচরা মূল্য না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে, উত্তর প্রদেশসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সংস্থাগুলো একইভাবে তেলের দাম বাড়িয়েছিল।
ভারতের প্রধান বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার সম্প্রতি সমাপ্ত কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের মন জয় করতে এবং রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য এখন পর্যন্ত তেলের দাম বাড়তে দেয়নি এবং নির্বাচন শেষ হতেই সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে।
এদিকে, ‘ভারত পেট্রোলিয়াম’-এর চেয়ারম্যান বলেছেন যে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পরেও তারা প্রতি লিটার ডিজেলে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং প্রতি লিটার পেট্রোলে ১০ থেকে ১৪ টাকা রাজস্ব ঘাটতি বা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভারতের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তেল শোধনাগারগুলো চালু রাখার জন্য কোনো আর্থিক প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
উল্লেখ্য যে, এই তিনটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা—ভারত পেট্রোলিয়াম, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—সম্মিলিতভাবে ভারতের ১ লক্ষ ৩ হাজার জ্বালানি স্টেশনের ৯০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাধারণত যৌথভাবে তেলের দাম নির্ধারণ করে।

Description of image