শিশু রামিসা হত্যা: অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি মুশফিকুর-লিটনের

Untitled design (54)

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ক্রিকেট বিশ্বের তারকারা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তারা অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, “আজ সকালে এই খবর শুনে আমি পুরোপুরি হতবাক। ছোট্ট রামিসার নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সুরক্ষা পাওয়ার কথা ছিল… এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা নয়। আমি এই নিষ্পাপ শিশুটির জন্য দ্রুত ও ন্যায্য বিচারের দাবি জানাচ্ছি। কোনো পরিবারকে যেন আর কখনো এমন দুর্ভোগ সহ্য করতে না হয়। শিশু নির্যাতনের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।”
ক্রিকেটার শরিফুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “জয়ের আনন্দ এখনও আছে, কিন্তু আমার মন ভারাক্রান্ত ও হতাশ। এই ছোট্ট শিশুটির কী দোষ ছিল? আমরা কবে এসব থেকে মুক্তি পাব? আমি রামিসা হত্যার বিচার চাই। আমরা ধর্ষণকারীদের এমন উপযুক্ত শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই জঘন্য কাজ করার কথা ভাবতেও না পারে। আমরা সবাই কবে এক দেশ হব? আমরা রামিসা হত্যার বিচার চাই।”
লিটন কুমার দাস বলেছেন, “একজন মেয়ের বাবা হিসেবে রামিসার খবরটি আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। কোনো সমাজেই এমন ঘটনা সহ্য করা যায় না। আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব প্রয়োজন, যেখানে তারা নির্ভয়ে বেড়ে উঠতে পারবে। যা ঘটেছে তার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা রামিসার জন্য বিচার চাওয়ার পাশাপাশি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। আমরা আর কখনও এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে চাই না।” ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস তার পোস্টে লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি আপনাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি এই দেশকে রক্ষা করুন। এই দেশে এখন আর কোনো শিশুই নিরাপদ নয়। কিছু মানুষ হিংস্র পশুর চেয়েও বেশি সহিংস হয়ে উঠেছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া উচিত। বিচার ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। ইনশাআল্লাহ, এই বিষয়ে দেশের সকল মানুষ আপনার পাশে থাকবে।’
মেহেদী হাসান মিরাজ লিখেছেন, ‘মিরপুরের পল্লবীতে নির্যাতনের শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিশা এবং এই ধরনের সকল ঘটনার অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ধর্ষণ, নির্যাতন এবং সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ শৈশব, সম্মান এবং মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অঙ্গীকার, রামিসার মতো আর কোনো শিশু যেন এই ধরনের নির্যাতনের শিকার না হয়।’ হোসেন বলেছেন, ‘শিশুর হাসি হোক নিরাপত্তার প্রতীক, ভয়ের নয়। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে প্রতিটি শিশু শান্তিতে বাস করবে এবং ভালোবাসার মধ্যে বেড়ে উঠবে। রামিসার মতো আর কোনো নিষ্পাপ জীবন যেন অবিচারের শিকার না হয়। অপরাধীদের কঠোর বিচার হোক। আল্লাহ ছোট্ট রামিসাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।’
আফিফ হোসেন ধ্রুব লিখেছেন, ‘কোনো শিশুকেই এমন ভয়াবহতার শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়। চুপ থাকা কোনো বিকল্প নয়। আমরা ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং শিশুদের জন্য আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা চাই। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের দ্রুত, কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া আবশ্যক।’
তাসকিন আহমেদ তার পোস্টে বলেছেন, ‘একটি মেয়ে শিশুর অভিভাবক হিসেবে রামিসার ঘটনাটি সত্যিই বেদনাদায়ক এবং মর্মান্তিক। কোনো সভ্য সমাজে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের এমন একটি নিরাপদ বিশ্ব প্রয়োজন যেখানে তারা নির্ভয়ে বেড়ে উঠতে পারে। রামিসার সাথে যা ঘটেছে তার জন্য আমাদের অবশ্যই একটি দ্রুত এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে অন্য কোনো পরিবারকে এমন দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে না হয়।’ ভবিষ্যতে।’
বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত শিশুটির একটি স্কেচ পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারে। আসুন, আমরা ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠি। আর কোনো জীবন যেন এভাবে শেষ না হয়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। অপরাধীরা যেন এমন শাস্তি পায় যা সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

Description of image