যে দেশ ধূমপান চিরতরে নিষিদ্ধ করছে

Untitled design (24)

যুক্তরাজ্যকে ধূমপানমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পার্লামেন্টে ঐতিহাসিক ‘টোব্যাকো অ্যান্ড ভেইপস বিল’ পাস হয়েছে। এই যুগান্তকারী আইনের ফলে, ১ জানুয়ারি, ২০০৯-এর পরে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছে তামাকজাত পণ্য বিক্রি আজীবনের জন্য অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ১৭ বছর বা তার কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বা তাদের সারা জীবনে আর কখনও আইনত সিগারেট কিনতে পারবে না।
হাউস অফ কমন্স এবং হাউস অফ লর্ডস উভয় কর্তৃক বিলটির চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদিত হওয়ার পর, এটি এখন রাজকীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে, ব্রিটিশ মন্ত্রীরা তামাক এবং ভেইপিং পণ্যের ফ্লেভার ও প্যাকেজিং নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপক ক্ষমতা পাবেন। ধূমপানজনিত মৃত্যু ও অক্ষমতা প্রতিরোধের জন্য সরকারের গৃহীত একাধিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই কঠোর সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন আইনের অধীনে, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আরও কিছু বিধিনিষেধ যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে, স্কুল প্রাঙ্গণ, খেলার মাঠ এবং হাসপাতালের সামনে ভেইপিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়াও, শিশুবাহী গাড়িতে ভ্যাপিং করার অনুমতি নেই। তবে, যারা ধূমপান ছাড়তে চান, তাদের জন্য হাসপাতালের প্রাঙ্গণে নির্দিষ্ট এলাকায় ভ্যাপিং করার অনুমতি রয়েছে।
সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার জন্য, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বাড়ির ভেতরে এবং পাবের বাগান ও সৈকতের মতো খোলা জায়গায় ধূমপান বা ভ্যাপিং করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এই বিলটিকে দেশের জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। এই সংস্কার হাজার হাজার জীবন বাঁচাবে, এনএইচএস (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস)-এর ওপর চাপ কমাবে এবং একটি স্বাস্থ্যকর ব্রিটেন গড়ে তুলবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারনেস মেরন লর্ডসকে আশ্বস্ত করেছেন যে এটি এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য হস্তক্ষেপ এবং এটি অগণিত জীবন বাঁচাবে। তবে, এই বিলটি নিয়ে তামাক শিল্প এবং খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। প্রাক্তন কনজারভেটিভ এমপি লর্ড নাসবি সতর্ক করেছেন যে এই সিদ্ধান্ত খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি শুধু নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে ধূমপান ত্যাগের বিষয়ে যথাযথ জনশিক্ষা প্রদানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। জবাবে ব্যারনেস মেরন বলেন, সরকার খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং তা অব্যাহত রাখবে।
অ্যাজমা প্লাস লাং ইউকে-এর প্রধান নির্বাহী সারা স্লিট বিলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি তামাক শিল্পকে জবাবদিহি করার একটি সুযোগ। তবে, তিনি বর্তমান ধূমপায়ীদের এই অভ্যাস ছাড়তে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রস্তাব করেন যে, দেশব্যাপী ধূমপান বর্জন কর্মসূচিতে অর্থায়নের জন্য তামাক কোম্পানিগুলোর ওপর একটি বিশেষ শুল্ক আরোপ করা হোক।

Description of image

সূত্র: বিবিসি।