ঝিনাইদহে আ. লীগ নেতাকে জিম্মি করে টাকা আদায়চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

Untitled design (26)

মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঝিনাইদহ নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাটি প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীর স্বামী ও তার দুই সহযোগী অভিযুক্তের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করে।
আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী মহেশপুর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশ আজ রবিবার (১০ মে) তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমান, একই গ্রামের মিজানুর রহমান ছোটা এবং কুড়িপোল গ্রামের মো. ফিরোজ।
পুলিশ জানায়, এক গৃহবধূ মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নেতা মঙ্গলবার (৫ মে) খালিশপুর বাজারের কাছে একটি বাড়িতে গিয়ে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ঘটনার চার দিন পর শনিবার (৯ মে) ওই নারী সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ ওই দিন বিকেলে আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া সাজ্জাদুল ইসলামের স্ত্রী একই দিনে স্বামীকে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী তাহমিনা শম্পা গণমাধ্যমকে জানান, ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী ৫ মে একটি মোটরসাইকেল চুরির বিষয়ে তার স্বামীকে বাড়িতে ডেকেছিলেন। পরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়ে টাকা ও চেক আদায় করা হয়। শনিবার (৯ মে) চেক আনতে গেলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তবে, সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী নারী গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বাড়িতে একা ছিলেন এবং সাজ্জাদুল ইসলাম তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেন। পরে বিষয়টি মিটমাটের নামে টাকার লেনদেন হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার আপোষ ও গোপন মধ্যস্থতার চেষ্টা হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হামিদুল ইসলাম বলেন, পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে, জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং চেক নেওয়ার অভিযোগও প্রাথমিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

Description of image