শেখ হাসিনা ‘সরাসরি গুলি’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন: প্রধান প্রসিকিউটর

Untitled design (25)

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ রবিবার (১০ মে) নিজের দপ্তরের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই দিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমি নির্দেশ দিয়েছি, আমি খোলাখুলি নির্দেশ দিয়েছি। এখন, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা যাক, যেখানে সম্ভব, আমরা সরাসরি গুলি করব। শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের মধ্যে কথোপকথনে এমন নির্দেশের কথা উঠে এসেছিল।’ সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশ ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলে দেশজুড়ে ছাত্র ও জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র ও জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ আহত হন। সবচেয়ে আবেগঘন জায়গা হলো যেখানে ফায়াজকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডে পুরো বাংলাদেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিল। তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদপুরের এই মামলায় ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়িত্ব, ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং টার্গেট কিলিং-এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় অভিযোগ গঠন করেছে। আগামী ৮ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

Description of image