ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে বিশ্ব: আইইএ প্রধান

Untitled design (24)

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেছেন, বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিঙ্গাপুরে সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফাতিহ বিরোল বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজার থেকে প্রতিদিন ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল উধাও হয়ে যাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই সংকটের ফলে পারমাণবিক শক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়তে পারে। তবে, কিছু দেশে, বিশেষ করে এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিগুলোতে কয়লার ব্যবহারও বাড়তে পারে।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহন করা হতো। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে এই জলপথটি কার্যত ‘দ্বৈত অবরোধের’ অধীনে রয়েছে। আইইএ সতর্ক করেছে যে, এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং জ্বালানি রেশনিং শুরু হতে পারে।
ইউরোপে আসন্ন জেট ফুয়েলের ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করে বিরোল বলেন, ইউরোপের প্রায় ৭৫ শতাংশ জেট ফুয়েল আসে মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগারগুলো থেকে, যেগুলোর উৎপাদন এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে জেট ফুয়েল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। অতিরিক্ত আমদানি নিশ্চিত করা না গেলে ইউরোপ সমস্যায় পড়বে।
বিরোল আরও আশা প্রকাশ করেন যে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে রপ্তানি পুনরায় শুরু হবে। তবে তিনি যোগ করেন যে, প্রয়োজনে ইউরোপে বিমান চলাচল কমানোর মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। ৩২ সদস্যের আইইএ মার্চ মাসে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের প্রভাব কমাতে জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিরোল বলেন, এটি কেবল কষ্ট লাঘব করবে, সমস্যার সমাধান করবে না। আসল সমাধান হলো হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া।

Description of image