মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এরফান সোলতানির জামিন
সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণের অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার হওয়া এরফান সোলতানি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেংগাও এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে গত মাসে ইরান জুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সময় ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিন পেতে তার পরিবারকে ১৬,০০০ ডলার দিতে হয়েছিল। এরফানের আইনজীবী আমির মুসাখানি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হেংগাও এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, গত শনিবার সোলতানিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী এএফপিকে জানিয়েছেন যে, সোলতানির মুক্তির জন্য দুই বিলিয়ন তোমান জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। যা প্রায় ১৬,০০০ ডলারের সমতুল্য। মুক্তির পর তার মোবাইল ফোন সহ তার সমস্ত ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর গত মাসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তবে, পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক প্রেস টিভি গতকাল সোমবার জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক বিদেশী-সমর্থিত দাঙ্গায় আটককৃতদের মধ্যে একজন এরফান সোলতানিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে কিছু বিদেশী সংবাদমাধ্যম ভুল করে রিপোর্ট করেছে যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এরফান সোলতানিকে জানুয়ারির গোড়ার দিকে পশ্চিম তেহরানে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি অভিযোগ করেছে যে গ্রেপ্তারের পর তাকে আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার পরিবারকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তারা আরও দাবি করেছে যে মৃত্যুদণ্ডের আগে পরিবারকে কেবল একবার সংক্ষিপ্তভাবে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কারণ দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
ইরানের বিচার বিভাগ আগে বলেছিল যে, সোলতানির বিরুদ্ধে “জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে জড়ো হওয়া এবং যোগসাজশ” এবং “রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার” করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে, এরফান সোলতানির পরিবার জোর দিয়ে বলেছে যে তিনি কখনও সহিংসতায় জড়িত ছিলেন না। বরং, তারা ইরানি জনগণের মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতার সমর্থনে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করছিল।

