জানুয়ারি 30, 2026

‘আমরা ভারতকে এমন একটি শিক্ষা দিয়েছি যা তারা কখনও ভুলবে না’

Untitled_design_-_2025-12-18T161246.432_1200x630

এই বছরের এপ্রিল-মে মাসে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই চিরশত্রু দেশের নেতা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায়শই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিপরীতে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আবারও যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন।
আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) খাইবার পাখতুনখোয়ার হরিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন যে, এপ্রিল-মে সংঘর্ষে পাকিস্তান মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারকে এমন একটি শিক্ষা দিয়েছে। তার ভাষায়, আমরা মোদী সরকারকে পাকিস্তান-ভারত সংঘর্ষে এমন একটি শিক্ষা দিয়েছি যা তারা কখনও ভুলবে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, জাতির প্রার্থনা এবং অটল সমর্থনে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী ‘মার্কা-এ-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধে’ বিজয় অর্জন করেছে। দিল্লি থেকে মুম্বাই – সমগ্র ভারত কখনও এই পরাজয় ভুলবে না।
এ সময় শাহবাজ শরীফ খাইবার পাখতুনখোয়াকে সাহসী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং বীরদের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রদেশের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, আপনাদের আত্মত্যাগের কারণে দেশে শান্তি ফিরে এসেছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান ‘জাদু’র মাধ্যমে নয় বরং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনীতি সংকট থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং স্থিতিশীলতার পথে রয়েছে এবং এখন এটিকে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে ঐক্যের উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশ তখনই এগিয়ে যাবে যখন চারটি প্রদেশই উন্নত হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে, কিন্তু পাকিস্তান তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। এরপর, ২৩ এপ্রিল ভারত একের পর এক প্রতিকূল পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ছিল ৬৫ বছরের পুরনো সিন্ধু জল চুক্তি (আইডব্লিওটি) স্থগিত করা, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা, ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া, নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া এবং উভয় দেশের দূতাবাসে কর্মীদের সংখ্যা হ্রাস করা।

Description of image