‘সন্ত্রাসী’ রায়হান এসপি মাসুদকে জাহান্নামের সংজ্ঞা দিতে বললেন

Untitled design (53)

পুলিশের তালিকায় থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এসপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, ‘মাসুদ স্যার, জাহান্নাম আর নরকের মধ্যে পার্থক্য কী?’
রায়হান গত রবিবার (২ জুলাই) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই স্ট্যাটাসটি পোস্ট করেন। সোমবার (৩ জুলাই) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সম্প্রতি নোয়াখালীতে রায়হানকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ একটি অভিযান চালায়। অভিযানে পুলিশ তাকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল। তবে রায়হান শেষ মুহূর্তে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে পালিয়ে যান।
পরের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম মন্তব্য করেন, ‘রায়হান কোনোমতে ছাদ থেকে লাফিয়ে বেঁচে গেছে। তবে সে জাহান্নাম না দেখলেও, জাহান্নাম দেখেছে।’ ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ সুপারের মন্তব্যের কারণেই রায়হান ফেসবুকে এই পোস্টটি করেছেন। পোস্টটিতে রায়হান নোয়াখালীর কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, “নোয়াখালীর রংমালার মানুষদের ধন্যবাদ। তাঁরা আমার পাশে নিখুঁতভাবে দাঁড়িয়েছেন।”
রায়হান উল্লেখ করেন যে, বিপদের সময় সব ধরনের মানুষ সাহায্য প্রত্যাশা করে, যা তিনি নোয়াখালী থেকে পেয়েছেন। সুযোগ পেলে সৎ পথে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লিখেছেন, “বিপদ আসবে, তাই হতাশ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।”
গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিজেই সন্ত্রাসী রায়হানের ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি উত্থাপন করেন। পুলিশ সুপার বলেন, “তাকে ধরার জন্য আমরা ওই এলাকায় প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চিরুনি অভিযান চালিয়েছি। হয়তো কেউ তাকে পালাতে বা লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া আমরা তা বলতে পারছি না।”
নোয়াখালীর জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে রায়হানের পোস্টের বিষয়ে মাসুদ আলম বলেন, “নোয়াখালীর সমস্ত মানুষ তাকে আর সাহায্য করেনি। হয়তো কয়েকজন জেনে বা না জেনে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

Description of image