ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের মৃত্যু

Untitled design (65)

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে মারা গেছেন মিজানুর রহমান (৫৫) নামের এক সন্দেহভাজন। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত মিজানুর রহমান উপজেলার কৈরাতলী গ্রামের বাবুর বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ জানায়, সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কয়েকদিন আগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। তার শরীরে কোনো আঘাত বা ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, গ্রেপ্তারের পর থানায় আনার পথে অভিযুক্ত অসুস্থ বোধ করলে পুলিশ দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, মিজানুর রহমানের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবার ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছে। মৃতের এক আত্মীয় মামুন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, কৈরাতলাই গ্রামের মোশফিকুর রহমান ইমু, আসিফ ভূঁইয়া ও কালু মিয়া নামের একটি দল কয়েকদিন ধরে মিজানুর রহমানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছিল। তাদের যোগসাজশে পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করে এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করে। পরিবারের দাবি, ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগের অপবাদ ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি মারা গেছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Description of image