আবেগঘন পোস্ট করার পর পুলিশের আত্মহত্যা, স্ত্রীসহ ৫ জনের মামলা
স্ত্রী ও শাশুড়িকে অপমান ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট করার পর রাজধানীর ডেমরা থানায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে মো. সাইদুল ইসলাম (১৯) নামের এক পুলিশ সদস্য।
এই ঘটনায় গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে মৃতের বাবা মো. সাদেক (৫৭) ডেমরা থানায় সাইদুলের স্ত্রী ও তার শ্বশুরবাড়ির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের কাউকেই এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। সাইদুল ইসলামের গ্রাম ফেনী সদর উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামে। তিনি পূর্বাঞ্চলীয় পুলিশ লাইন্সের ‘সি’ কোম্পানিতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার বাদী মো. সাদেক জানান, তিনি একটি ভ্যানে বেকারি পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করে ধার করা টাকা দিয়ে ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন। পুলিশ চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর বাবা-মা আশা করেছিলেন যে ছেলের আয়ে ঋণ শোধ হয়ে যাবে এবং পরিবারে সমৃদ্ধি ফিরে আসবে।
তিনি আরও বলেন যে, এই বছরের ৪ মে সাইদুলের সঙ্গে রুবাইয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২২ মে রুবাইয়া পরীক্ষা দিতে সাইদুলের বাড়ি থেকে তার মাদ্রাসায় যায়। সেদিন রুবাইয়া তার বাবার সঙ্গে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়। পরে, ২৫ মে রুবাইয়া তার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে এসে ঝগড়া করে বাবার বাড়িতে ফিরে যায়।
পরে, যখন সে তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে ফোন করে, তখন তারা মোবাইল ফোনে সাইদুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সেই সময়, তারা তাকে গরীব ও তুচ্ছ বলাসহ নানাভাবে অপমান ও লাঞ্ছিত করে। অপমান সহ্য করতে না পেরে তার বাবা ১৬ জুলাই রাতে ফেসবুকে পোস্ট করে অভিযোগ করেন যে সাইদুল আত্মহত্যা করেছে।
মৃতের পরিবারের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা জানান, রাজাখালী সাকিনে ইস্টার্ন রিজিওনাল পুলিশ লাইন্স ভবনের ২০ তলার নবম তলার ৯০৯ নম্বর কক্ষে সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন সাইদুল ইসলাম। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটির বিস্তারিত স্পষ্ট হবে।
এ প্রসঙ্গে ইস্টার্ন রিজিওনাল পুলিশ লাইন্সের ইনচার্জ (ডিসি) কাজী নুসরাত লুনা বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ না থাকায় সাইদুল ও তার স্ত্রীর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এছাড়া, ফেসবুক পোস্টে কিছু আবেগঘন বিষয় উল্লেখ করে তিনি বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন।

