সিবিএস নিউজ: ট্রাম্প বলেছেন, ইরান চুক্তির সমালোচকদের ‘শিক্ষিত’ হতে হবে

Untitled design - 2026-06-24T120422.671

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যারা ইরানের সঙ্গে এই চুক্তির সমালোচনা করছেন, তাদের এ বিষয়ে আরও জানতে হবে, বা ‘শিক্ষিত’ হতে হবে। তিনি বিশেষ করে নিজের দলের সিনেটর টেড ক্রুজের সমালোচনার জবাবে এ কথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘যারা এই চুক্তির সমালোচনা করছেন, তারা আমার বন্ধু হলেও, তাদের এ বিষয়ে আরও জানতে হবে। কারণ আমরা ইরানকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছি, যেখানে এর আগে কোনো প্রশাসন যেতে পারেনি।’ তবে, ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে কংগ্রেসে অসন্তোষ বাড়ছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক উভয় দলের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করছেন যে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পর্কে তাদের এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ক্যাপিটল হিলের বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, চুক্তির মূল দিকগুলো নিয়ে কংগ্রেসকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন পুরো কংগ্রেসের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়েরও আয়োজন করেনি। এদিকে, সিনেটর টেড ক্রুজ শুরু থেকেই চুক্তির বেশ কয়েকটি দিকের বিরোধিতা করে আসছেন। বিশেষ করে, তিনি ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া এবং স্বল্প মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনার বিরোধিতা করছেন।
গত সপ্তাহে এক বক্তৃতায় ক্রুজ বলেন, “ইতিহাস দেখিয়েছে যে, আমাদের ক্ষতি করতে চাওয়া ধর্মতান্ত্রিক চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে শত শত কোটি ডলার দেওয়া একটি অত্যন্ত খারাপ সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও দাবি করেন যে, চুক্তিটির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুল পরামর্শ পাচ্ছেন। ক্রুজ বলেন, “আমি চাই না যুক্তরাষ্ট্রের একটি পয়সাও আয়াতুল্লাহর সরকারের কাছে যাক।”
ইরানকে ঘিরে নতুন চুক্তিটি নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্রতর হচ্ছে। একদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করছে, অন্যদিকে, কংগ্রেসের অনেক সদস্য চুক্তির শর্তাবলী, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং এর মাধ্যমে ইরান যে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ফলস্বরূপ, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

Description of image