গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬ জনের মধ্যে আল জাজিরার ক্যামেরাম্যানও রয়েছেন
ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইসাহ এবং একজন শিশুও রয়েছেন। আল জাজিরা জানিয়েছে, গতকাল শনিবার (২০ জুন) মধ্য গাজার একটি বাড়িতে হামলায় তাদের সাংবাদিক আহমেদ উইসাহ নিহত হয়েছেন। গণমাধ্যমটি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি “জঘন্য অপরাধ” আখ্যা দিয়েছে।
আল জাজিরা এক বিবৃতিতে বলেছে, আহমেদ উইসাহকে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিক নীতিরই একটি অংশ। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে উইসাহ হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং একজন স্নাইপার হিসেবে কাজ করতেন। তবে, তারা এই দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ দেয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১,০০৭ জন নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার বুরাইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে হামলায় উইশাহ ও আরও দুজন নিহত হন। স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী দলের বরাত দিয়ে আইডিএফ দাবি করেছে যে, নিহত অন্য দুজনও হামাসের সদস্য ছিলেন।
উল্লেখ্য, আহমেদ উইশাহর ভাই এবং আল জাজিরার আরেক সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহ গত এপ্রিলে একটি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। সে সময় আইডিএফ তাকে হামাসের অস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। অন্যদিকে, সাবরা এলাকায় রাতের বেলায় আরেকটি হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল। তবে চিকিৎসকদের মতে, নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন শিশুও ছিল।
নিহত পরিবারের এক আত্মীয় নায়েল সাফাদি বলেন, “এদের সাথে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা নিরীহ মানুষ, নিতান্তই শিশু।” এটা কি যুদ্ধবিরতি? আমরা সাধারণ মানুষ। আমি কখনো অস্ত্র হাতে নিইনি। উত্তর ও দক্ষিণ গাজাতেও আরও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

