পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা

Untitled design - 2026-06-10T172514.211

অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা একটি ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান গ্রামে হামলা চালিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে তারা রামাল্লার পূর্বে অবস্থিত তাইবেহ গ্রামের একটি বিশাল কৃষি জমিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
যদিও এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা তীব্রতর হয়েছে। সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক গ্রামের কাছে একটি নতুন অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নির্মিত হওয়ার পর থেকে তাইবেহ একটি ঘন ঘন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
গত বছর, চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা গ্রামের ঐতিহাসিক ‘সেন্ট জর্জ গির্জা’ এবং এর সংলগ্ন কবরস্থানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার পর, এমনকি ইসরায়েলি বসতির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও বিরল নিন্দা জ্ঞাপন করেছিলেন। তবে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা উপেক্ষা করে গ্রামটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাইবেহ-এর ঐতিহাসিক গ্রামটি প্রায় ৩,০০০ বছরের পুরনো এবং এর উৎপত্তি কানানীয় যুগে। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৭ সালের আদমশুমারি অনুসারে, এখানে প্রায় ১,৩৪০ জন মানুষ বাস করে, যাদের অধিকাংশই খ্রিস্টান। উর্বর চারণভূমির জন্য পরিচিত এই এলাকার বাসিন্দারা জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রধানত ভেড়া পালন করে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক প্রাচুর্যই এখন তাদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরাসরি সমর্থনে বসতি স্থাপনকারীরা ক্রমাগত গ্রামটির জমি দখল করে চলেছে।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, কিন্তু ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে। তারা এখন ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে শারীরিক হামলা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের এই নজিরবিহীন ও ধারাবাহিক সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের ওপর এই হামলাগুলোকে শুধু সমর্থনই করছে না, বরং তাদের সুরক্ষাও প্রদান করছে।
জাতিসংঘ ফিলিস্তিন কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধরন এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের চলমান ও দৈনিক হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলি সরকারের দেওয়া আর্থিক সহায়তা, রসদ সরবরাহ এবং সামরিক সুরক্ষার ফলে এই সহিংসতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। জাতিসংঘের মতে, ২০১৫ সালের তুলনায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় মৃতের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৬ সালেও তা বাড়তে থাকবে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শুধু এই বছরেই ১৫ জন রয়েছেন। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর সম্মিলিত চাপ প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং এই অবৈধ বসতিগুলো স্থায়ীভাবে ভেঙে দেয়।

Description of image

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।