বিবিসি রিপোর্ট: মার্কিন হামলার প্রতিশোধে ৩টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসি-র হামলা
হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ভূপাতিত করেছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ডন নিউজ জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে যে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আল-আজরাক এলাকা লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করার সময় এর ধ্বংসাবশেষ বা ধ্বংসাবশেষের অংশ জর্ডানের ভূখণ্ডে এসে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও মেলেনি। দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
এদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে “শত্রু” লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছে যে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও প্রতিহত করছে। এই লক্ষ্যবস্তুগুলোর উৎস সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-কে উদ্ধৃত করে আইআরজিসি বলেছে, তাদের বাহিনী আল-আজরাক এলাকার একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। আরও দাবি করা হয়েছে যে, সেখানে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অবস্থান এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার ছিল। ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চালানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালায়। একটি মার্কিন সামরিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এই অভিযান শুরু করা হয়। তবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই হামলার জবাব কঠোর হবে। একই দিনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে আরাঘচি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো আক্রমণ বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না।”
পোস্টে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “যদি নিরাপদ থাকতে চান, আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে যান।” এর আগে, মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ইরানের আক্রমণের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, ইরান আগের রাতে হরমুজ প্রণালীতে টহলরত একটি অত্যাধুনিক মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ট্রাম্প বলেন, “এই আক্রমণের জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য।”
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বারাক রাভিদের বরাত দিয়ে জানায় যে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত বেশ কয়েকটি ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেছেন যে, ওয়াশিংটন বিশ্বাস করে না যে এই হামলা যুদ্ধ শেষ করার জন্য চলমান আলোচনাকে ব্যাহত করবে। তিনি দাবি করেন যে এটি মূলত একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই চালানো হয়েছে।

