সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রইল
জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে, যার ফলে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রইল। এই আইন পাসের ফলে সংগঠনটিকে বিচারের আওতায় আনার পথও প্রশস্ত হয়েছে। অর্থাৎ, এই আইনে যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের বিচার করা যাবে। এই নতুন আইনি পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনেছে।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল), দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিলটি পাসের জন্য প্রস্তাব করলে তা ধ্বনি ভোটে পাস হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি পাস হলে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান কথা বলতে চাইলে স্পিকার তা আইনসম্মত না হওয়ায় অনুমতি দেননি।
তবে, এই সময় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা তিন-চার মিনিট আগে একটি শীট পেয়েছি। আমি এখনও সেটি পড়তে পারিনি। যেহেতু আইনটি নিঃসন্দেহে একটি সংবেদনশীল আইন। বিলটি পাসের আগে আমরা কি কিছু সময় দেওয়ার অনুরোধ করতে পারি?
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিলের এই পর্যায়ে আপত্তি জানানোর কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপত্তি বা প্রস্তাব জানানোর কথা ছিল, যা দেওয়া হয়নি।’ এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই বিলটি গণহত্যায় জড়িত সন্ত্রাসী সংগঠন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত একটি সংশোধনী। এটি পূর্ববর্তী আইন, অর্থাৎ সন্ত্রাস দমন আইনকে সংশোধন করার জন্য আনা হয়েছে।
‘বিরোধীদলীয় নেতার মনে রাখা উচিত যে তিনি এবং তার এনসিপি বন্ধুরা একটি আন্দোলনের মাধ্যমে জনমত তৈরি করেছিলেন। সেই জনমতের প্রেক্ষাপটেই সন্ত্রাস দমন আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই আইনের কারণে বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।’ এমনকি সংগঠনটির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনও পরিবর্তন করা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংশোধনের সময় শেষ হয়ে গেছে। আমরা যদি এখন আলোচনা করতে চাই, তাহলে বিলটির প্রথম বা দ্বিতীয় পাঠের সময় প্রস্তাবটি করা উচিত ছিল।’ মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকারের নির্দেশনায় বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হয় এবং ধ্বনি ভোটে তা পাস হয়।
এই আইন পাসের ফলে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশটি আইনি ভিত্তি পেল। ২০২৫ সালের ১২ মে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী, অংশীদার ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে সেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়েছিল। পরবর্তীতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা করে এবং সংশোধিত আকারে সংসদে এটিকে আইন হিসেবে পাসের সুপারিশ করে। কমিটির সুপারিশের আলোকে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং পাস হয়।

