ধর্ষণের শিকার তরুণীর আত্মহত্যা: মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের ফুলপুরে ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রুবেল মিয়া (৪০)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আত্মগোপনকারী অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনেছে র্যাব। এতে ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় লোকজন স্বস্তি পেয়েছেন।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর এলাকায় এক অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃত রুবেল মিয়া ওই উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের বড় শুনি গ্রামের বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জনক।
মামলার প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ (রবিবার) রাতে মেয়েটির দাদি বাড়ির কাছের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় রুবেল ও মেয়েটিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। দাদির উপস্থিতি টের পেয়ে রুবেল পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মেয়েটি বাড়ি ফিরে এসে তার দাদিকে জানায় যে রুবেল সব শেষ করে দিয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে সে ইতোমধ্যেই কীটনাশক পান করে ফেলেছে।
গত ৩০ মার্চ ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি মারা যায়। মেয়েটির মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত শেষে তার আত্মীয়রা মরদেহ নিয়ে ফুলপুর থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্ত রুবেলের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবি জানান। সেই রাতেই মেয়েটির বাবা ফুলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা শুরু করে।
র্যাব-১৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আমরা মামলার ২৪ ঘণ্টার আগেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহত মেয়েটির পরিবার মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, রুবেলের মতো অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে।

