ফেব্রুয়ারি 23, 2026

বসিলা-আদাবর-বেড়িবাঁধ এলাকায় আবারও বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

Untitled_design_-_2026-02-22T095529.863_1200x630

রাজধানীর বসিলা, আদাবর এবং বেড়িবাঁধ এলাকায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দুর্বৃত্ত, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং। গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঈদের চাঁদা দাবিতে আদাবরে আবির ফ্যাশন নামে একটি সূচিকর্ম কারখানায় হামলা চালানো হয়। এতে কমপক্ষে তিনজন আহত হন। এর প্রতিবাদে স্থানীয় সূচিকর্ম মালিক ও শ্রমিকরা আদাবর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরই মধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত কালা রাসেলসহ ঘটনার সাথে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মোহাম্মদপুরের বসিলায় তিন রাস্তার মোড়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রকাশ্য দিবালোকে এক পথচারীকে ছিনতাই করা হচ্ছে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে কিশোর গ্যাং সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার উপর হামলা চালায়। আহত পথচারী কোনওভাবে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অভিযোগটি এলাকায় আতঙ্কে পরিণত হওয়া খুনি বাদল গ্রুপের বিরুদ্ধে।
একই দিন, একই এলাকা। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে মুক্তিপণ না দেওয়া হলে পুরো বাজারের সব দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি। এখানেও খুনি বাদল গ্রুপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবেই মোহাম্মদপুর, আদাবর, ঢাকা উদ্যান, বসিলা সিটি হাউজিং এবং আশেপাশের এলাকার মানুষ বিভিন্ন চক্রের নামে ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ।
গতকাল রাতে আদাবর এলাকার কালা রাসেল গ্রুপের সদস্যরা ঈদ উপলক্ষে সূচিকর্ম ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের কারখানায় মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পাওয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়।
সহিংসতায় অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা কালা রাসেলের বাবাকে আটক করে। পরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও তাদের নিরাপত্তার দাবিতে আদাবর থানার সামনে জড়ো হয়। থানার সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সোনা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় কিশোর গ্যাং এবং চাঁদাবাজদের দমনে বিভিন্ন স্থানে টহল এবং পাহারা জোরদার করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “প্রতিটি এলাকায় আমাদের মোবাইল টহল দল রয়েছে। কোনও ঘটনার খবর পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারি।” ঈদের আগে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

Description of image