ফেব্রুয়ারি 11, 2026

আজ মাঠে নামবেন ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

Untitled_design_-_2026-02-10T112218.623_1200x630

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নির্বাচনী অপরাধের বিচারের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সারা দেশে ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছে। প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতায় নিযুক্ত বিচারকরা আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, নিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। তারা ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দুই দিন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আইনি এখতিয়ার সম্পর্কে, প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (১৯৭২ সালের পি.ও. নং ১৫৫) ধারা ৮৯এ দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে, বিচার বিভাগের এই কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। তারা মূলত ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ (১) ধারার অধীনে ভোটদানে বাধা, ভোটকেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং অন্যান্য অপরাধ সহ বিভিন্ন তফসিলি অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা করবেন।

Description of image

বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে:
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো-
১. নিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করতে হবে। যোগদান পত্রের একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠাতে হবে।
২. দায়িত্ব পালনের সময় যদি কোনও নির্বাচনী অপরাধ বিচারের জন্য বিবেচিত হয়, তাহলে তা ‘সারসংক্ষেপ বিচার’ বা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। বিচার বা নিষ্পত্তি বিবৃতির ফলাফল নির্ধারিত ফরম্যাটে পরবর্তী ৭২ ঘন্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইন শাখায় পাঠাতে হবে।
৩. বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর করার জন্য, প্রতিটি ম্যাজিস্ট্রেট একজন বেঞ্চ সহকারী, স্টেনোগ্রাফার বা অফিস সহকারীকে সহায়ক কর্মী হিসেবে নিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট জেলার বিচারকদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
৪. সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য জিপ, মাইক্রোবাস বা স্পিডবোট সহ প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহ করবেন।
৫. বিচারকদের নিরাপত্তা এবং তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতায়েন করার জন্য পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার বা স্থানীয় থানার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, পঞ্চগড়-১ আসন থেকে শুরু করে বান্দরবান পর্যন্ত – মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক বা একাধিক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।