ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সাথে আলোচনার জন্য নেতানিয়াহু আমেরিকা সফর করবেন
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর করছেন। ওমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার ঠিক একদিন পর, গতকাল শনিবার রাতে (৭ ফেব্রুয়ারি) নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এই সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
তিনি গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং আগামী বুধবার সকালে (১১ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করবেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে ইরানের সাথে যেকোনো চুক্তিতে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উপর কঠোর সীমা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। একই সাথে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত ছায়া গোষ্ঠী বা ‘প্রক্সি’দের সমর্থন বন্ধ করার বিষয়টি টেবিলে রাখা অপরিহার্য। নেতানিয়াহুর অবস্থান মূলত ওমানে চলমান মার্কিন-ইরান আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার খবরে ইসরায়েলের উদ্বেগের প্রতিফলন।
গত এক বছরে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই সফর হবে নেতানিয়াহুর সপ্তম মার্কিন সফর। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তার ইসরায়েল ফিরে আসার কথা। নেতানিয়াহুর সাথে এই বিশেষ সফরে যোগ দেবেন ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর টিশলার, যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে আলোচনার একদিন পর, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ পরিদর্শন করেন। জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন এবং তেহরান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আলোচনা করেছে।
রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প বলেছেন যে, ইরানের সাথে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে এবং ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে খুবই আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তবে, ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের পাশাপাশি ইরানের সামরিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ না করা পর্যন্ত কোনও চুক্তিই টেকসই হবে না।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল।

