বরগুনায় কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ
বরগুনা সদর উপজেলায় এক প্রবাসীকে তার স্ত্রী, কথিত পরকীয়া প্রেমিকা, মেয়ে ও শাশুড়িকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রবাসী আপাং সিকদারের মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা। গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সদর উপজেলার পুরকাটা মহাসড়কের চালিতা এলাকায় এক বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে।
যদিও এই ঘটনায় জড়িত কথিত ‘পরকীয়া প্রেমিকা’ হাসান পালিয়ে যায়, নিহত আপাং-এর স্ত্রী, মেয়ে, শাশুড়ি ও দেবরকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়রা একটি গাড়িতে থাকা তাদের ঘিরে ফেলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখে। অবরোধকারীরা জানায়, আপাং সিকদার ১৭ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমের কাছে প্রায় ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী সেই টাকার কোনো হিসাব দিতে পারেননি।
তারা আরও জানান যে, নিহত আপাং-এর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তার প্রতিবেশী হাসানের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। আপাং বিষয়টি জানতে পারলে পরিবারে নানা বিবাদ সৃষ্টি হয়। বেশ কিছুদিন ধরে টাকা ও জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল। পরে, ১৫ জুলাই হাসান ও তার স্ত্রী আপাংকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে বরিশালের শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
অবরোধকারীদের দাবি, একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই প্রশাসন সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেবেন না। নিহতের বোন নুরজাহান বলেন, “আমার ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া ও তার পরকীয়া প্রেমিক হাসান আমার ভাইকে নির্মমভাবে মারধর করে। পরে তার অবস্থা গুরুতর হলে তারা তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাঁচানোর নাটক করে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার ও অপরাধীদের ফাঁসি চাই।”
এ প্রসঙ্গে বরগুনা সদর থানার ওসি আবু শাহাদাত মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, গত ১৫ জুলাই বরিশালের শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আপাং সিকদার মারা যান। তাকে হত্যার দাবি তুলে বরগুনা-পুরকাটা মহাসড়কের চালিতা এলাকায় স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি আরও বলেন, নিহতের আত্মীয়রা কোনো অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

