ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না: মিশরীয় রাষ্ট্রপতি

Untitled design (55)

মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে পূর্ণ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক সম্ভব নয়।
কাতার-ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা আজ রবিবার (৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে সিসি বলেন, একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের মধ্যে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের কোনো সম্ভাবনা নেই।
এক ভাষণে আল-সিসি বলেন, “যতক্ষণ না দখলদারিত্বের অবসান হচ্ছে, অবিচার ও আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে, প্রকৃত মালিকদের অধিকার পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত জনগণের পর্যায়ে স্থায়ী শান্তি, প্রকৃত স্থিতিশীলতা বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”
তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। তার মতে, একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি চুক্তি এই অঞ্চলের জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির এক নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
আল-সিসির এই বিবৃতিটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রথম আরব দেশ ছিল মিশর। যদিও সেই ঐতিহাসিক চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, ফিলিস্তিন ইস্যুতে কায়রো দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রয়েছে।
মিশরীয় রাষ্ট্রপতি গাজার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, সেই সময় থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১,০০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে আরব দেশগুলোর অবস্থান এখনও একটি বড় বাধা। আল-সিসির সাম্প্রতিক বিবৃতি সেই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

Description of image