কঙ্গোতে ইবোলায় ৩৭৭ জনের মৃত্যু, আফ্রিকা গুরুতর ঝুঁকিতে

Untitled design (60)

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, আফ্রিকায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে মহাদেশটির অর্থনীতিতে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলেছে যে, ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। এই ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো কার্যকর ও পরীক্ষিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) সরকারের মতে, ১৫ই মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে ১,৩০৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন এবং ৩৭৭ জন মারা গেছেন। এছাড়াও, উগান্ডায় অল্প সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে ভাইরাসটি দক্ষিণ সুদানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ডিআর কঙ্গোতে ইউএনডিপি-র আবাসিক প্রতিনিধি ড্যামিয়েন মামা বলেছেন, প্রয়োজনীয় তহবিল ও সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্যথায়, এটি সমগ্র অঞ্চল এবং সম্ভবত আফ্রিকার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সংকটে পরিণত হতে পারে।
ইউএনডিপি-র প্রতিবেদনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতে, যদি রোগটি ডিআর কঙ্গো এবং উগান্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ডিআর কঙ্গোর মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে, যদি ইবোলা রুয়ান্ডা এবং অ্যাঙ্গোলাসহ অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সময়ে ইরান সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে, তবে আফ্রিকার অর্থনীতি ৩.৬ বিলিয়ন ডলার এবং প্রায় ৩২৮,০০০ কর্মসংস্থান হারাতে পারে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হলো ডিআর কঙ্গোর সংঘাতপূর্ণ ইতুরি প্রদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, অনেক ক্ষেত্রে ইবোলা আক্রান্তদের দাফনের সময় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অবিশ্বাসের কারণে সাহায্যকর্মীরাও নিরাপদ দাফনকার্য সম্পাদনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডিআর কঙ্গো সরকার গত সপ্তাহে রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তবে, বিরোধী দলগুলো এই নিষেধাজ্ঞাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে, কারণ এটি সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিতে পরিকল্পিত বিক্ষোভের ঠিক আগে জারি করা হয়েছে।

Description of image

সূত্র: আল জাজিরা