মার্কিন আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্ক আরোপ করবে ইরান ও ওমান

Untitled design (61)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও, ইরান ও ওমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর যৌথভাবে একটি ‘পরিষেবা শুল্ক’ বা ট্যারিফ আরোপের পরিকল্পনা করছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ জুন) দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একজন ইরানি কর্মকর্তা ও চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশ দুটি এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ১৪-দফা চুক্তিতে বলা হয়েছিল যে, ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো শুল্ক ছাড়াই নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে, সেই চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান একটি যৌথ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নে বাধ্য। এই শুল্ক বা টোল আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে যুদ্ধ-পরবর্তী একটি আঞ্চলিক বাণিজ্য মডেলের অংশ হিসেবে, যা শত শত বছর ধরে বিদ্যমান অবাধ নৌচলাচলের নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সূত্র জানিয়েছে, ওমান এই শুল্ককে ‘ঐচ্ছিক’ রাখতে চায়, কিন্তু ইরান এটিকে ‘বাধ্যতামূলক’ করার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। মাস্কাট এই অর্থ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল বজায় রাখার খরচ মেটাতে ব্যবহার করতে চায়, যা মালাক্কা বা সিঙ্গাপুর প্রণালীর শাসনের অনুরূপ। তবে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ওমানের সাথে কোনো যৌথ চুক্তি না হলেও তেহরান একতরফাভাবে এই কর আরোপ করবে। ইরানের এই ধরনের একতরফা ও বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত এড়াতে ওমান একটি মধ্যপন্থা বা বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। এদিকে, ওমানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপে ওয়াশিংটন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনকি ওমানের ওপর সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, ইরান ও ওমান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের কর আরোপের চেষ্টা করে, তবে ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়া হবে’।
ট্রাম্পের মতে, এই প্রণালী একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, কেউ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন চরম মন্তব্যের পর মার্কিন কূটনীতিকদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তবে পরে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসান্তের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে ওমানের কূটনীতিকরা আশ্বস্ত করেন যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর শুল্ক আরোপের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

Description of image

সূত্র: মিডল ইস্ট আই