কবর থেকে সালমান শাহের মরদেহ উত্তোলন করা হবে

Untitled design - 2026-06-10T175316.874

প্রায় তিন দশক পর চলচ্চিত্র তারকা সালমান শাহের মৃত্যু মামলায় নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলন ও পুনঃময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছে আদালত। গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোরশেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রা.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থান থেকে সালমান শাহের মরদেহ উত্তোলন করা হবে। এরপর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসভবনে সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের পর জনপ্রিয় এই নায়ককে সিলেটে দাফন করা হয়।
গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে, একই বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত পুরোনো দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দেন।
এই মামলায় সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ সতেরো জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সালমান শাহের পরিবারের সদস্যরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে শোবার ঘরে তাঁকে মৃত অবস্থায় পান। দাবি করা হয় যে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তারা তার গলায় দড়ির দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বাদী অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্তরা সালমান শাহকে হত্যা করার জন্য পরস্পরের সঙ্গে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেছিল।

Description of image