প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

Untitled design (7)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদেরকে একটি সময়োপযোগী বাহিনীতে রূপান্তরিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে এমপি আল ফারুক আবদুল লতিফ একটি লিখিত প্রশ্ন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। এর জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী বাহিনীতে রূপান্তরিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ ও উন্নতি।
তিনি বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে এমন সক্ষমতায় উন্নীত করাই সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা এবং বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে, ‘ম্যাড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, দ্রুত, আত্মনির্ভরশীল, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্র সংযোজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং সাইবারস্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিমান বাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনও গুরুত্ব পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, কল্যাণ, অবসর-পরবর্তী মর্যাদা এবং ‘এক পদ এক ব্যক্তি এক পেনশন’-এর মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও জনআস্থাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে উন্নত অস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, জাহাজ ও সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিকীকরণ কর্মসূচি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করবে।
তারিক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী বিভিন্ন বন্ধু দেশের সঙ্গে নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনা করছে। একই সাথে, বিভিন্ন দেশের সাথে নিয়মিত কর্মকর্তা-পর্যায়ের বৈঠক, প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হচ্ছে।

Description of image