সেপ্টেম্বর 12, 2026

ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ—এখন কী হবে?

Untitled design (29)

সারা বিশ্ব ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে শান্তি আলোচনার ফলাফলের জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু বিশ্ব কোনো সুখবর পায়নি। ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল কোনো ‘শান্তি চুক্তি’ ছাড়াই পাকিস্তান ত্যাগ করেছে।
ফলে, এখন সবাই কৌতূহলী—আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এখন কী হবে? দুই পক্ষ কি আলোচনায় ফিরবে? নাকি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত আবার শুরু হবে? বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই এই আলোচনায় এমন মনোভাব নিয়ে অংশ নিয়েছিল যে তারা যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। তাই, এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো স্বাভাবিকভাবেই কঠিন ছিল।
আর এখন মনে হচ্ছে, তা সত্যিই অসম্ভব ছিল। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইরানি সভ্যতা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ছিল। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়েও গুঞ্জন চলছিল। একটি নিশ্চিত ধ্বংসাত্মক সংঘাত এড়াতে পাকিস্তান দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসে। এ কারণেই শান্তিকামী মানুষেরা এই আলোচনা নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলেন।
কিন্তু যেহেতু ইসলামাবাদের আলোচনা কোনো আশা জাগাতে পারেনি, বিশ্বকে কি এখন আবার দাঁত কিড়মিড় করার মতো দুশ্চিন্তায় সময় কাটাতে হবে? বিবিসি সংবাদদাতা জো ইনউড বলেছেন যে, ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে হামলার সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে।
ইরান যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আংশিকভাবে কিন্তু কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়টি আপাতত আলোচনার বাইরেই রয়েছে। তবে কিছুদিন আগে পারস্য উপসাগরে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য কোনো পথ বিবেচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, আলোচনার সাফল্যের প্রধান বাধা ছিল ইরানের এই বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়া যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, কিন্তু এক বছরের মধ্যে দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এখন তাদের দেশের পারমাণবিক অস্ত্র সমর্থকদের পারমাণবিক শক্তি অর্জনে উৎসাহিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনাটি ঐতিহাসিক ছিল, কিন্তু এটি কূটনীতির ব্যর্থতা হিসেবেই ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হতে পারে।

Description of image