যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হাতে পৌঁছেছে

Untitled_design_-_2026-04-06T153529.001_1200x630

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবিলম্বে শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি খসড়া পরিকল্পনা পেয়েছে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে তেহরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’, যার পর ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রস্তাবটির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র আজ সোমবার জানিয়েছে যে, শান্তি পরিকল্পনাটি দুটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রথম ধাপটি হলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, এবং এরপর ১৫-২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে। সূত্রটি আরও জানায় যে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সারারাত ধরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন।
ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন যে, ইরান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলবে না। তিনি আরও বলেন যে, প্রস্তাবটি পর্যালোচনার সময় ইরান কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে নেবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন যে, ওয়াশিংটন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত নয়। গতকাল রবিবার, অ্যাক্সিওস সর্বপ্রথম জানায় যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা একটি সম্ভাব্য ৪৫-দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছে, যা একটি দুই-পর্যায়ের চুক্তির অংশ হিসেবে এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে।
মঙ্গলবার নাগাদ চুক্তি, ট্রাম্পের শর্ত
গতকাল নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে চুক্তি না হলে এবং প্রণালীটি খুলে না দেওয়া হলে তিনি ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন পরিকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা চালাবেন। পরে, অন্য একটি পোস্টে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন: মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)!
আজ অঞ্চলজুড়ে নতুন বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে। পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন যে, যেকোনো সমাধানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ যেকোনো চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যকে “আরও বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল” করে তুলবে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল হাইফায় একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে, যেখান থেকে উদ্ধারকারীরা দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ৩,৫৪০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২৪৪ জন শিশু রয়েছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ইসরায়েলও দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং বৈরুতে আঘাত হেনেছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে মৃতের সংখ্যা ১,৪৬১ জন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২৪ জন শিশু রয়েছে।

Description of image

সূত্র: রয়টার্স