ইরানের তেল ও খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান ট্রাম্প

Untitled_design_12_1200x630

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, তিনি ইরানের তেল এবং দেশটির প্রধান তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ) ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি আজ সোমবার, এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে, আমি ইরানের তেল নিতে চাই। কিন্তু আমেরিকার কিছু লোক বলে – আমরা এটা কেন করছি? তারা বোকা।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট খার্গ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ দখল করব, হয়তো করব না। আমাদের কাছে অনেক বিকল্প আছে। কিন্তু যদি আমরা এটা দখল করি, তাহলে আমাদের সেখানে কিছুদিন থাকতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয় তাদের তেমন কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারি।”
বিবিসি জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপের দিকে নজর দিয়েছে কারণ এটি ইরানের বৃহত্তম তেল টার্মিনাল, যা ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন। দ্বীপটি দখল করা হলে শুধু ইরানের তেল রপ্তানিই বন্ধ হবে না, বরং ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগও তৈরি হবে।
বিবিসি সিকিউরিটি ব্রিফের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মিকি কে বলেছেন, দ্বীপটি দখল করা হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের আয়ের একটি প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাবে, যা তাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করবে। স্কুল অফ ওয়ার পডকাস্টের সঞ্চালক এবং সিবিএস-এর জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যারন ম্যাকলিন বলেছেন, দ্বীপটি দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অভিযান তুলনামূলকভাবে ছোট হবে, তবে তা হবে বেশ কঠিন।
এদিকে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার আশঙ্কায় এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৩,৫০০ মার্কিন সেনা এসে পৌঁছেছে। ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে, দ্রুত যুদ্ধবিরতি হবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেছেন, “দ্রুত একটি চুক্তি হতে পারে।”

Description of image